পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ভাঙ্গারি মালামাল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে জিম্মি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং একটি স্মার্টফোন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম (৩৫) ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আসাদুল ইসলাম বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিরোখালী গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে। তিনি ভাঙ্গারি ব্যবসা করেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ভাঙ্গারি মালামাল কেনার জন্য সুমন নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওভারব্রিজ এলাকায় যান আসাদুল। সেখানে সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে সাগর নামের একজনকে তার কাছে পাঠান।
পরে সাগর গোডাউনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আসাদুলকে উপজেলার ধাওয়া এলাকার ‘গোড়াখাল’ নামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আসাদুলের দাবি, সেখানে পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলেন। তাদের মধ্যে ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ কাজী, সাবেক ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মশিউর রহমান টিটু হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. রুবেল হাওলাদার, যুবদল নেতা মো. সোহাগ মৃধাসহ স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় দোকানদারদের কাছে সাহায্য চাইলে তাকে মারধর করে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে মশিউর রহমান টিটুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা দাবি এবং মারধর করা হয় বলে দাবি করেন আসাদুল।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জিম্মি অবস্থায় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেখানে অবৈধ মালামালের ছবি পাঠানো হয়। পরে এসব ছবি ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, পাঁচটি ব্যাংক চেক, দুটি এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া তার বিকাশ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং নগদ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সিটি ব্যাংকের এটিএম কার্ডের পিন নম্বর নিয়ে বুথ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আসাদুল।
ঘটনার পর মুক্ত হয়ে তিনি প্রথমে স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানান। পরে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন