বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন অনেক আগেই। শতবর্ষ পেরিয়েও জরাজীর্ণ একটি ঘরে ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটছিল সখিনা বেগমের। শেষ বয়সে তাঁর একটাই চাওয়া ছিল—নিরাপদ একটি ঘর। অবশেষে ১০১ বছর বয়সে এসে পূরণ হলো সেই স্বপ্ন। নতুন পাকা ঘর পেয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সখিনা বেগম।
ইরামন ফাউন্ডেশনের (IraMon Foundation) সহায়তায় মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছেন মানিকনগর পশ্চিম পাড়ার এই বৃদ্ধা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সখিনা বেগমের জরাজীর্ণ ঘরের ছবি ও তাঁর কষ্টের জীবন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে আসে। বিষয়টি নজরে আসে সমাজসেবক আকবর হায়দার মুন্নার। পরে তিনি আশিক নামে এক স্বেচ্ছাসেবীকে বিষয়টি সরেজমিনে যাচাইয়ের অনুরোধ জানান।
পরবর্তীতে সখিনা বেগমের নাতি ও স্থানীয় সাংবাদিক মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় তাঁর ঘরের নাজুক অবস্থার চিত্র সামনে আসে। বিষয়টি জানার পর বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় মানবসেবামূলক সংগঠন ইরামন ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আকবর হায়দার মুন্না সখিনা বেগমের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সম্পূর্ণ খরচ বহনের আশ্বাস দেন। এরপর স্থানীয় সাংবাদিক মেহেদী হাসানের তত্ত্বাবধানে গত ৯ আগস্ট শুরু হয় ঘর নির্মাণের কাজ।
দীর্ঘ এক মাসের প্রচেষ্টায় গত ৯ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজ শেষ করে সখিনা বেগমের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন ঘর। তাঁর আবদার অনুযায়ী, ঘরে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত সখিনা বেগম বলেন, “শেষ বয়সে এসে ভাঙা ঘরে ভিজে-শুকিয়ে দিন কাটাতে হতো। এখন নতুন ঘর পেয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারব।”
এ সময় তিনি ঘর নির্মাণে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের জন্য দোয়া করেন।
উদ্যোক্তারা বলেন, মানুষের জন্য করা ছোট একটি উদ্যোগও কখনো কখনো কারও জীবনে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে। সখিনা বেগমের নতুন ঘর তারই একটি সুন্দর উদাহরণ। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষরা অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে এলে তাদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন