
নড়াইলে বোরো ধান রোপণের ধুম পড়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো ধান রোপণের কাজে। চলতি মৌসুমে বীজতলা, সার ও সেচের কোনো সংকট না থাকায় স্বস্তিতে চাষাবাদ করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বিগত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙে এবার নড়াইলে বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, বোরো মৌসুমের শুরুতে শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ধান রোপণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও গত দুই সপ্তাহ ধরে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় পুরোদমে ধান রোপণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে রৌদ্রজ্জ্বল ও মনোরম আবহাওয়া বোরো চাষের জন্য সহায়ক হয়ে উঠেছে।
সদর উপজেলার চৌগাছা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম শেখ বলেন, তিনি ১৮০ শতক জমিতে বোরো ধান রোপণ করছেন। বর্তমানে ধানের চারা বা স্থানীয় ভাষায় ‘পাতো’র কোনো সংকট নেই। একই গ্রামের আতাউর রহমান জানান, তিনি তিন একর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছেন। শীতের শুরুতে কিছু সমস্যা থাকলেও এখন পরিবেশ খুবই অনুকূলে রয়েছে।
৭৫ বছর বয়সী কৃষক বাদশা শেখ বলেন, জমি চাষ করে মই দিয়ে সমতল করে ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃষক মোহাম্মদ মোরাদ জানান, আগে গরু দিয়ে জমি চাষ করা হলেও এখন পাওয়ার ট্রিলার ব্যবহার করা হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুটোই কম লাগছে।
অন্যদিকে কৃষক সাগর শেখ বলেন, তিনি ১৩৫ শতক জমিতে রডমিনিকেট জাতের ধান রোপণ করছেন। এই জাতের ফলন ও বাজারদর ভালো, ভাত সুস্বাদু এবং খড় বা বিছালিও ভালো হয়।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা জানান, বোরো মৌসুমের শুরুতে সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎচালিত সেচের তেমন কোনো সংকট নেই। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষি উপকরণ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নড়াইলের উপ-পরিচালক জানান, ২০২৫–২৬ মৌসুমে জেলায় ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪–২৫ মৌসুমে ৫০ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং ২০২৩–২৪ মৌসুমে ৫০ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। সে হিসেবে গত তিন বছরে জেলায় বোরো আবাদ বেড়েছে ৬৭ হেক্টর।
তিনি আরও জানান, এ বছর জেলায় ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশই আদর্শ বীজতলা। ফলে বীজতলা নিয়েও কোনো সংকট নেই।
মন্তব্য করুন