মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া বাজারে চারটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে বাজারের মুদি ও সার-কীটনাশকের দোকানগুলোতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
চুরির শিকার দোকানগুলো হলো—দাইড়পোল গ্রামের মো. আব্দুর রহমান রতনের মুদি দোকান, পূর্বশ্রীকোল গ্রামের শ্রী লালন বিশ্বাসের মুদি দোকান, বরিশাট গ্রামের মো. লাবু মোল্লার মুদি দোকান এবং নাছির হোসেনের ‘রুকাইয়া এন্টারপ্রাইজ’ সার ও কীটনাশকের দোকান।
দোকান মালিকরা জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে বেচাকেনা শেষে দোকান বন্ধ করে তারা বাড়িতে চলে যান। রোববার সকালে বাজারে এসে দোকানের সাটার ভাঙা দেখতে পান। পরে দোকানের ভেতরে ঢুকে ক্যাশ টেবিলের ড্রয়ার ভাঙা এবং মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তারা।
মুদি দোকানি শ্রী লালন বিশ্বাস জানান, সাটারের লক ভেঙে চোরেরা দোকানে প্রবেশ করে নগদ টাকা, দামি সিগারেটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। এতে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক মুদি দোকানি লাবু মোল্লা জানান, তার দোকান থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও মালামালসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার জিনিসপত্র চুরি হয়েছে।
আব্দুর রহমান রতন জানান, তার দোকানের সাটার ভেঙে চোরেরা ভেতরে ঢুকে ড্রয়ারে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা, দামি সিগারেটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী নাছির হোসেন জানান, তার দোকানের সাটার ভাঙা হলেও ভেতরের লক থাকায় চোরেরা দোকানে প্রবেশ করতে পারেনি।
এদিকে বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বাজারে নাইট গার্ড থাকার পরও প্রধান সড়কের পাশের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, ১২ থেকে ১৪ জন নাইট গার্ডের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও নিয়মিত মাত্র ৩ থেকে ৪ জন দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, গত মাসেও বাজারের বাবু মোল্লার সার ও কীটনাশকের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। পরপর চুরির ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
তারা বলেন, এভাবে চুরির ঘটনা চলতে থাকলে বাজারে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে। নাইট গার্ডদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং চুরির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মো. আতাউর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন