
স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর চার দিন পর মানবিক বিবেচনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম। বুধবার দুপুরে হাইকোর্টের জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছালে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেলা দুইটার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (কারাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আসিফ উদ্দীন। তিনি জানান, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন ফৌজদারি বেঞ্চ মানবিক বিবেচনায় সাদ্দামের ৬ মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।
কারা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন সাদ্দাম। পরে বাগেরহাট কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং পাশেই ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মানসিক অবসাদ থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেন।
২৪ জানুয়ারি প্যারোল না পাওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য জেলগেটের ভেতরে মরদেহ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। প্যারোল না দিয়ে এভাবে মরদেহ দেখানোর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে সাদ্দামের মুক্তি ঘিরে কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারাফটকে গণমাধ্যমকর্মীরা অপেক্ষা করলেও কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জেল সুপার জেলার আবিদ আহম্মেদ ফোন রিসিভ করেননি।
সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, মুক্তির পর সন্ধ্যায় সাদ্দাম বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মন্তব্য করুন