
বাগেরহাটে যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. শামীম হোসেনসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র, নগদ অর্থ এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের নাগেরবাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগেরবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেজর আশরাফ জামান ও লেফটেন্যান্ট জারিফ। অভিযানকালে শামীম হোসেন (৩৮), তার স্ত্রী মোসা. আদরী এবং শাশুড়ি মোসা. মমতাজ বেগমকে আটক করা হয়। শামীম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক অবস্থায় থেকে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযান চলাকালে শামীমের বসতবাড়ি থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা, ৫০০ গ্রাম গাঁজা, বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জাম, ৭টি দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত নানা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১০৮ টাকা নগদ অর্থ, ৫টি মোবাইল ফোন, ৮টি সিসি ক্যামেরা, ১টি হার্ডডিস্ক, ৩টি আইডি কার্ড, ২০টি লাইটার, ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন উপকরণ এবং একটি খুর।
হ্যাঁ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আটক শামীমের বিরুদ্ধে বাগেরহাট থানায় একটি হত্যা মামলাসহ মোট দুটি মামলা চলমান রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা, অস্ত্র প্রদর্শন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নাগেরবাজার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানের পর জব্দকৃত মালামাল থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল। প্রকাশ্যে মাদক কারবার চলায় সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছিল এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। তাদের মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে নাগেরবাজার এলাকায় মাদক ব্যবসার লাগাম টানা সম্ভব হবে।
তবে এলাকাবাসী একই সঙ্গে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, অনেক সময় গ্রেফতার হওয়া মাদক কারবারিরা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় স্থায়ী নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন