
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. আব্দুল ছালামের স্বাক্ষরিত ফলাফলপত্র যাচাই করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জামানতের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার টাকা। নির্বাচনী এলাকায় মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই হিসাবে নড়াইলের দুটি আসনে পাঁচজন ছাড়া বাকি ১১ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।
নড়াইল-১ আসনে ১১২টি কেন্দ্র (পোস্টাল ভোটসহ) মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৫ জন ভোটার ভোট প্রদান করেন, যা মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ আসনে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটের হিসাব দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৯৪ ভোট। এখানে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ছয়জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল আজিজ (৬,৩৫২ ভোট), জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙল প্রতীকের মো. মিল্টন মোল্যা (৪৬১ ভোট), কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বি এম নাগিব হোসেন (১,১১৩ ভোট), ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লে. কর্নেল (অব.) এস এম সাজ্জাদ হোসেন (৮৯৮ ভোট), হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. উজ্জ্বল মোল্যা (২৩০ ভোট) এবং ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুকেশ সাহা আনন্দ (৮৬৪ ভোট)।
অন্যদিকে, নড়াইল-২ আসনে ১৪৮টি কেন্দ্র (পোস্টাল ভোটসহ) মিলিয়ে মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৮১ জন ভোটার ভোট দেন, যা মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এখানে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটের সমীকরণ দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৫৯৭ ভোট। এ আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পাঁচজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন— জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (৬৮৮ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. তাজুল ইসলাম (৪,৭২৯ ভোট), গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের মো. নূর ইসলাম (৩৩৯ ভোট), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ছড়ি প্রতীকের মো. শোয়েব আলী (২২০ ভোট) এবং জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন (২১৯ ভোট)।
উল্লেখ্য, নড়াইল-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জেলা সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ওবায়দুল্লাহ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট। অন্যদিকে নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চু ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম (৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট)। ধানের শীষের প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নড়াইল-১ আসনটি দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিএনপির দখলে এসেছে। অপরদিকে, নড়াইল-২ আসনে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর প্রথমবারের মতো জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় জেলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন