
নড়াইল সদর উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে সোমবার ভোরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়ের মিয়ার সমর্থক ও স্থানীয় খলিল শেখের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল।
ঘটনার দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে গ্রামটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন খলিল গ্রুপের ৩ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের আরও ২ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: খলিল শেখ (৬০) ও তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৩০), খলিল গ্রুপের সমর্থক ফেরদৌস (৩৫), সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের সমর্থক ওসিবুর রহমান (৪০) ও মুন্না (২৮)। নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, তাই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রেরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সামাজিক আধিপত্য নিয়েই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সংঘর্ষের পর গ্রামে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নতুন সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নড়াইল পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন সিকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, “এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।”
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ থেকে ৭ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে গ্রামে পুরুষশূন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা নিরাপত্তার জন্য ঘরে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন।
নড়াইলে এ ধরনের আধিপত্য বিরোধ সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক উত্তেজনা ও অস্থিরতার দিক নির্দেশ করছে। স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, ভবিষ্যতে পুনরায় এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে গ্রামে পুলিশের উপস্থিতি বজায় রাখা হবে এবং শান্তি রক্ষায় সকল পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন