
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও সংগঠিত কার্যক্রম জোরদারে এক দ্বিমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় উপজেলার ৩ নং রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভাটি বাস্তবায়ন করে উত্তরণ এক্সেস প্রকল্প, সহযোগিতায় ছিল Helvetas Swiss Intercooperation Bangladesh।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ওপিডি’র সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রঞ্জন নিকোলাস, অ্যাডভোকেসি, মাইগ্রেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং অফিসার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মো. রুহুল আমিন, অনিত কুমার দাস এবং কমল কুমার চক্রবর্তী, সিডিও, উত্তরণ এক্সেস প্রকল্প।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিদ্যমান সুবিধা, প্রাপ্তি ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সরকারি ভাতা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, অনেক সময় তথ্যের অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যা সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ক্ষুদ্র কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায়, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করা সম্ভব হবে।
বক্তারা বলেন, সংগঠিত ও সচেতন হলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সমাজের মূল ধারায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারবেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাটি সঞ্চালনা করেন কমল চক্রবর্তী, সিডিও, শরণখোলা এবং অনিত কুমার দাস, সিডিও, শরণখোলা, উত্তরণ এক্সেস প্রকল্প।
উল্লেখ্য, উত্তরণ এক্সেস প্রকল্পের মাধ্যমে শরণখোলা উপজেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অধিকার সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়িত হবে এবং উপকারভোগীদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন