
যশোরের শার্শা উপজেলার পূর্ব সীমান্তবর্তী বেলতলা বাজার এই শীত মৌসুমে জমজমাট অবস্থায় লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় কুলবরই চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কুয়াশা ভেজা সকালে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুলবইর’র ঘ্রাণ আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততায় বাজার মুখর থাকে। প্রতি শীতে বাজারটি গ্রীষ্মের তুলনায় নতুন রূপ নেয় এবং কুলবরই বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে এলাকার অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
একসময় সীমিত পরিসরে কুলবরই চাষ হলেও এখন এটি শার্শার কৃষি অর্থনীতির অন্যতম ভরসা। শার্শা ও কলারোয়া উপজেলার কুলবরই বাগান ঘিরে বেলতলা বাজার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুল সরবরাহের নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর নতুন কৃষকও কুল চাষে যুক্ত হচ্ছেন, ফলে বাজারের বাণিজ্য আয়তন ক্রমেই বাড়ছে।
স্থানীয় কুল চাষি আকসাদ আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। “গত বছরের তুলনায় ফলন কিছু কম হলেও বাজারে দাম ভালো। বেলতলা বাজারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে সঠিক ওজন পাওয়া যায়। কোনো কারচুপি নেই। এতে চাষিরা প্রকৃত অর্থে লাভবান হচ্ছি,” তিনি বলেন।
বাজারে বিভিন্ন জাতের কুল পাওয়া যায়—বৌ সুন্দরী, বল সুন্দরী, থাই, চায়না, আপেল ও টক কুল। জাতভেদে দাম আলাদা হলেও সব ধরনের কুল দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বড় শহরগুলোতে কুলের চাহিদা থাকায় প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে কুল পাঠানো হয়। ঝিনাইদহের ফল ব্যবসায়ী মুজাহিদ মিয়া বলেন, “আমি প্রায় ১৭ বছর ধরে ফল ব্যবসায় জড়িত। বেলতলা বাজার আমাদের জন্য নির্ভরযোগ্য। কিছু এলাকায় ফলন কম হলেও চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম ভালো।”
বাজারের আড়তদাররা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কুলের চাহিদা ও কেনাবেচা দুটোই বেড়েছে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা কেনাবেচা চলে। দাম ভালো থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ই খুশি। বেলতলা বাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মুন্না বলেন, “কুল ঘিরে বাজারের সম্ভাবনা ব্যাপক। প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে চাষি ও ব্যবসায়ী নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারবেন। ভবিষ্যতে বেলতলা বাজার দক্ষিণাঞ্চলে আমের বাজারের মতো পরিচিতি পাবে।”
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৩৮ হেক্টর বা ১০৩০ বিঘা জমিতে কুল চাষ হয়েছে। বৌ সুন্দরী, বল সুন্দরী, থাই, আপেল, চায়না, নারকেল কুল ও টক কুলের চাষ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, “ফলন ও বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় চাষিরা লাভবান। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে কুল চাষ আরও বাড়বে।”
শীতকালে বেলতলা বাজার শুধুমাত্র একটি ফলের বাজার নয়, এটি শার্শা উপজেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। কুলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক গতিশীলতা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা এনেছে এবং কৃষক-ব্যবসায়ীদের মুখে খুশি ফোটাচ্ছে।
মন্তব্য করুন