যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুরে জমি জবরদখল, হামলা, হত্যাচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জান্নাতুন নাহার মোহনা নামে এক শিক্ষার্থী। রোববার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা এবং অভিযুক্তদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মোহনা বলেন, তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন, মা নাসিমা বেগম এবং পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী হামলা, জমি জবরদখল, হুমকি ও নানামুখী হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। বারবাকপুরের বাসিন্দা নাজমুল আকরাম রকি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন মোহনা।
তার অভিযোগ, বারবাকপুর মৌজার ৩১৮ নম্বর খতিয়ানের ৩১২৭ নম্বর দাগের জমি নিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে রকি পক্ষের বিরোধ চলছে। ওই জমিতে তাদের মালিকানা থাকা সত্ত্বেও তা জবরদখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের জমিতে থাকা প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
মোহনা বলেন, গত ২৪ এপ্রিল জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নাজমুল আকরাম রকি, তার স্ত্রী তুলি বেগমসহ কয়েকজন তাদের পরিবারের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার মা নাসিমা বেগমকে মারধর করা হলে তিনি ও তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন বাধা দিতে যান। তখন তাদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন মোহনা। একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা এবং মাটি ফেলে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মোহনার দাবি, ওই ঘটনার পর ঝিকরগাছা থানায় তিনটি অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বারবাকপুর মৌজার ৩১৮ নম্বর খতিয়ানের ৩১২৭ নম্বর দাগে মোট ৬৬ শতক জমির মধ্যে ১৬ শতক জমি হেবা সূত্রে নাসিমা বেগমের প্রাপ্ত। এ জমি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মোহনার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা নম্বর পি-১৩০/২৬ এবং নালিশি জমিতে আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মোহনা অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় গত ১০ মে দুপুরের দিকে রকি, আরিফ হোসেন, রকির স্ত্রী তুলি খাতুনসহ কয়েকজন নালিশি জমিতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা আটটি বড় মেহগনি গাছ, কয়েকটি লম্বু ও ডুব গাছ কেটে নিয়ে যান। এ সময় বাধা দিলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ করেন মোহনা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।
মোহনা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৯, ২১ ও ৩০ জুলাই রকি ও তার সহযোগীরা তাদের পরিবারের ওপর আরও তিন দফা হামলা চালায় এবং জমিতে প্রবেশ করে গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায়ও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রকির বিরুদ্ধে অন্য একটি মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। মোহনার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বারবাকপুরের বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের মাছের ঘেরে গত ১৬ মে দিবাগত রাতে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে আনুমানিক ৪০ মণ মাছ মারা যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাজমুল আকরাম রকি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
মোহনা আরও দাবি করেন, তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষের নামে থাকা আরও প্রায় চার বিঘা জমি প্রতারণা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে রকির বাবা ভোগদখল করছেন। এ জমি নিয়ে বসাবসির উদ্যোগ নিলে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অভিযুক্ত পক্ষকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান মোহনা। একই সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও হামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মোহনার বাবা মোজাম্মেল হোসেন, মা নাসিমা বেগম, ভাই জিয়াউর রহমান, নানী মমতাজ বেগম, চাচা বজলুর রহমান, খালু আমীর হোসেনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন
মন্তব্য করুন