
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও চিকিৎসক সংকটের অভিযোগে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ রোগীরা সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে দাখিল করা এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার ইতি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না এবং দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আবাসিক চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তিনি হাসপাতালে অবস্থান না করে বাইরে বসবাস করছেন, যা সরকারি বিধি-বিধানের পরিপন্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এই চিকিৎসক যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ গমন করেছেন। তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিদেশে গিয়ে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত একইভাবে বিদেশে অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি মা ও গুরুতর রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা, এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকা এবং রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে রেফার করার প্রবণতা বাড়ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিকগুলোতে লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা দেওয়ার কারণে ভুল চিকিৎসা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পূর্বে বদলি আদেশ জারি হলেও তা কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমনের ঘটনায় একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনীম মুনমুন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. নাজমুন নাহার ইতির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের পরও মাঠপর্যায়ে এমন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন