পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারের নতুন স্বাদ যোগ হয়েছে খাগড়াছড়িতে। পর্যটকদের ভ্রমণ আরও আনন্দময় ও রোমাঞ্চকর করতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে চালু করা হয়েছে জিপ লাইন, জায়ান্ট সুইং ও শিশুদের জন্য বিশেষ কিডস জোন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে নতুন এসব বিনোদন সুবিধার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য নতুন নতুন আকর্ষণ তৈরি করা গেলে খাগড়াছড়িতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। নতুন সংযোজিত জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং পর্যটকদের বাড়তি রোমাঞ্চের সুযোগ তৈরি করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে শিশুদের জন্য কিডস জোন চালু করা হয়েছে। ফলে একই স্থানে শিশু, তরুণ ও বড়দের বিনোদনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় হর্টিকালচার পার্কটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়, ঝরনা, বন ও মেঘের অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে খাগড়াছড়ি দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর না করে আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা যুক্ত করা গেলে পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক পর্যটনের আগ্রহ বাড়ছে। এ কারণে জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং নতুন প্রজন্মের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে কিডস জোন চালু হওয়ায় শিশুদের নিয়ে পরিবারসহ ভ্রমণকারীদের কাছেও পার্কটির আকর্ষণ বাড়বে।
নতুন এসব বিনোদন সুবিধা চালুর মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারের সমন্বয় ঘটিয়ে হর্টিকালচার পার্কটি স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য নতুন বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াছ মেহেদী, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন