দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহাবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ট্রাকচালক লুৎফর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় ‘বৃক্ষপ্রেমী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি এবং তা না দেওয়ায় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক দশকে লুৎফর রহমান নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে পাঁচ হাজারেরও বেশি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া ২০টি আমগাছের চারা স্থানীয়দের পরামর্শে দক্ষিণ শাহাবাজপুর এলাকার বন বিভাগের একটি ফাঁকা জায়গার পাশের রাস্তার ধারে রোপণ করেন। স্থানীয়রা জানান, ওই স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের ফুটবল মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
লুৎফর রহমানের অভিযোগ, গাছ লাগানোর কয়েক মাস পর প্রয়াগপুর বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান তাঁকে অফিসে ডেকে বন বিভাগের জায়গায় গাছ লাগানোর অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে তাঁর বিরুদ্ধে গাছের চারা নষ্ট করে বন বিভাগের জমিতে ধান চাষের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁর কলেজপড়ুয়া দুই ছেলেকেও আসামি করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ শাহাবাজপুর মৌজার ৫৬৬২ নম্বর দাগের ওই স্থানে বর্তমানে স্থানীয়দের ফুটবল খেলা চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, সেখানে বহু বছর ধরে খেলার মাঠ রয়েছে এবং জায়গাটি উঁচু হওয়ায় ধান চাষের উপযোগী নয়।
লুৎফর রহমান বলেন, “সরকারি কৃষি অফিস থেকে পাওয়া আমগাছ সরকারি জায়গাতেই রোপণ করেছি। এতে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না। ঘুষ না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, লুৎফর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিনা স্বার্থে গাছ লাগিয়ে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কেটে ফেলা বা ধান চাষের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা দাবি করেন। তারা মামলাটি প্রত্যাহার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন শাহা বলেন, “ফুটবল মাঠের পাশে গাছ লাগানোর বিষয়ে আমার পরামর্শেই লুৎফর রহমান চারা রোপণ করেছিলেন। পরে জানতে পারি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রয়াগপুর বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ঢাকায় বদলি হয়েছেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরামপুর বন বিভাগের চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমি চার মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। যেহেতু মামলাটি আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতেই এর নিষ্পত্তি হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
মন্তব্য করুন