লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও জনদুর্ভোগ তুলে ধরতে এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানের সহধর্মিণী হাবীবা সুলতানা সুমি।
সভাটি স্থানীয় জনগণের জন্য একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা, ভোগান্তি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে কৃষি খাতে সেচ সংকট, জরাজীর্ণ গ্রামীণ সড়ক, বেকারত্ব সমস্যা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও জ্বালানির অভাবে তারা সময়মতো চাষাবাদ করতে পারছেন না, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন থাকা গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন বক্তারা। তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের দূরবর্তী এলাকায় যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে কর্মসংস্থানের অভাব একটি বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসে, যা তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে।
নারী অংশগ্রহণকারীরা সভায় তাদের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তারা নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির দাবি জানান।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ খুবই সীমিত থাকে। ফলে এ উদ্যোগ তাদের জন্য ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে এবং নিজেদের সমস্যা তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবীবা সুলতানা সুমি উপস্থিত সকলের কথা মনোযোগ সহকারে শোনার কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি আশ্বাস দেন, উত্থাপিত সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের মতবিনিময় সভার আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ১নং জোংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক শামীম আরা রত্না, সদস্য শাম্মী আক্তার ইমু এবং জগতবেড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আশাবাদ দেখা যায় যে, এ ধরনের উদ্যোগ এলাকার সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও দ্রুত সমাধানের পথ সুগম করবে এবং সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন