বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শান্তি, সহনশীলতা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘সম্প্রীতির সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে মোরেলগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে মোরেলগঞ্জ পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ‘মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি’ (এমআইপিএস) প্রকল্পের আওতায় এবং এফসিডিও (FCDO)-এর আর্থিক সহায়তায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মোরেলগঞ্জ পিএফজির কো-অর্ডিনেটর মো. ফারুক হোসেন সামাদের সভাপতিত্বে এবং পিএফজি অ্যাম্বাসেডর বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ফকির, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর এম. কে. আজিজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ নিহার হালদার, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস এম শাহিন আহমেদ, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোহেল রায়হান, থানা মহিলা দলের সভাপতি শাহিন ফেরদৌসী হ্যাপি, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাসরিন নাহার শিল্পী, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা, জেএসডির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মোস্তাফিজুর রহমান লাকি, ইমাম মনিরুজ্জামান হাওলাদার, পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী এবং সাংবাদিক রাজীব আহসান রাজুসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভাপতির বক্তব্যে মো. ফারুক হোসেন সামাদ বলেন, মোরেলগঞ্জে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্ম, মতাদর্শ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে মোরেলগঞ্জকে একটি অনুকরণীয় উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা কখনোই বিভেদের কারণ হতে পারে না। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়েই সহিংসতামুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত প্রতিনিধিরা ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তারা ‘সম্প্রীতির মোরেলগঞ্জ’ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. রেজবিউল কবির।
মন্তব্য করুন