সুনামগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও দফায় দফায় তীব্র শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিদের স্বপ্ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি হাওরজুড়ে দেখা দেওয়া ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। এর ফলে জেলায় আবাদকৃত প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকার ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ১০ লাখেরও বেশি কৃষক।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলায় হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী শিলাবৃষ্টিতে হাওরের দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টির প্রকোপ গত এক সপ্তাহ ধরে চলায় অধিকাংশ ধানই নষ্ট হয়ে গেছে। এর ওপর সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে অবশিষ্ট ফসলও।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ লাখ টন ধান, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকার ওপরে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হলেও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ থাকায় অনেক এলাকায় নৌকা দিয়ে পানির নিচ থেকে ধান সংগ্রহের চেষ্টা করছেন চাষিরা। তবে বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র শ্রমিক সংকটে সেই চেষ্টাও ব্যাহত হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমদ জানান, নলুয়ার হাওরের ৬০ শতাংশ ধান কাটা হলেও বাকি অংশ নিয়ে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে আছেন। শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা ফসলের বড় ক্ষতি করেছে। এদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে নিঃস্ব হয়ে পড়া হাওরাঞ্চলের কৃষকরা এখন সরকারি সহায়তার পাশাপাশি দ্রুত পানি সরানোর কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
মন্তব্য করুন