মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার একমাত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘স্টাইলস্মিথ সান অ্যাপারেলস লিমিটেড’ এর মালিক পক্ষকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে এক গৃহবধূকে গভীর রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনার পরপরই একটি মহল শিল্প প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষকে জড়িয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসানুজ্জামান ইদ্রীস আলী বলেন, শ্রীপুরের স্বনামধন্য এই শিল্প প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত একটি ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে প্রতিষ্ঠান ও এর মালিক পক্ষকে দায়ী করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, আহত গৃহবধূ শারমিন খাতুনের স্বামী হুমায়ুন মোল্লা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তারা জানান। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং কোনো পক্ষের বক্তব্যই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আমতৈল গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘স্টাইলস্মিথ সান অ্যাপারেলস লিমিটেড’ এর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিষ্ঠানটির নাম জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
তিনি আরও দাবি করেন, এ ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি ও স্থানীয়রা।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর একাংশও মনে করছেন, প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে বের হওয়া উচিত এবং কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারের মাধ্যমে নিরীহ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন