গ্রামীণ বাংলার একসময়কার পরিচিত দৃশ্য দেশি জাতের খেজুর এখন ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে। মাঠের পর মাঠজুড়ে যে খেজুর গাছগুলোতে ঝুলে থাকত রসালো হলুদ-সবুজ খেজুর, আজ সেসব দৃশ্য অনেক গ্রামেই আর দেখা যায় না। কালের বিবর্তন, বসতবাড়ি সম্প্রসারণ এবং কৃষিজমির ব্যবহার বদলে যাওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী ফলটি এখন বিলুপ্তির পথে।
আগে জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই গ্রামের পথঘাট, মাঠ ও গাছপালায় ভরে উঠত দেশি খেজুরে। কাঁচা অবস্থায় সবুজ আর পাকলে হলুদ বর্ণ ধারণ করা এই খেজুর ছিল গ্রামীণ শিশু-কিশোরদের অন্যতম প্রিয় ফল। খেজুর পাড়ার উৎসবমুখর সেই দিনগুলো এখন শুধুই স্মৃতি।
সদরের বরই গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, আগে আমাদের এলাকায় অসংখ্য খেজুর গাছ ছিল। এখন ঘরবাড়ি তৈরি ও জমি ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে দেশি খেজুর এখন আর সহজে পাওয়া যায় না।
কাপাসহাটি গ্রামের কৃষক জামিল জানান, একসময় গ্রামের হাটবাজারে দেশি খেজুরের চাহিদা ছিল অনেক। কিন্তু বর্তমানে এসব খেজুর প্রায় বিলুপ্ত। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপ নেওয়ায় এবং মাঠে বসতি বাড়ায় গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
কাটাখালি গ্রামের কৃষক শফিক বলেন, এখন আর আগের মতো খেজুর গাছ দেখা যায় না। যেগুলো আছে, সেগুলোতেও পর্যাপ্ত ফলন হয় না। ছোটবেলার খেজুর পাড়ার আনন্দ এখন স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ।
শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকায় এখনো হাতে গোনা কিছু খেজুর গাছ থাকলেও অনেকেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, দেশি খেজুর শুধু একটি ফল নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। তাই এই ঐতিহ্য রক্ষায় বেশি বেশি খেজুর গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে মাগুরার গ্রামাঞ্চলে দেশি খেজুরের হারিয়ে যাওয়া এখন কেবলই এক নস্টালজিক বাস্তবতা।
মন্তব্য করুন