কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে উপজেলার আগরপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। এ সময় উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ গাঁজা, যা স্থানীয় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের অংশ বলে ধারণা করছে পুলিশ।
আটককৃত ব্যক্তি হলেন রফিকুল ইসলাম (৩০)। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিবাড়ি দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন স্থানে গাঁজা সরবরাহ করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুলিয়ারচর থানার একটি চৌকস দল আগরপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে রফিকুল ইসলামকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস। তার সঙ্গে সঙ্গীয় ফোর্সের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত রফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তিকে থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি।
এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুলিয়ারচর থানা পুলিশ বলছে, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারি ও মাদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
মন্তব্য করুন