কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি, ডাকাতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেওয়ার পর মাঠে নেমেছে পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে গঠিত লাঠি-বাঁশি বাহিনী। জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ইতোমধ্যেই যৌথ টহল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পাড়া-মহল্লার প্রবেশমুখে বাঁশকল স্থাপন করে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। এতে কয়েকদিনের মধ্যেই গরু চুরির ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে ‘রঘু ডাকাত’ পরিচয়ে রক্তমাখা চিঠি পাঠিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের অন্তত ১৫টি বাড়িতে এমন চিঠি পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা জোরদারে তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন।
রবিবার (১৭ মে) রাতে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু টেকুয়াপাড়া গ্রামে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের হাতে টর্চলাইট ও বাঁশি তুলে দেন। পরে পুলিশ ও গ্রামবাসীর সমন্বয়ে গঠিত লাঠি-বাঁশি বাহিনী রাত থেকেই যৌথ টহল শুরু করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাফিজুর রহমান, শাহজাদপুর থানার ওসি মোঃ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে একাধিক বাড়িতে চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। টেকুয়াপাড়া গ্রামের আবু হোসেন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে জানালা দিয়ে স্প্রে করে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে তার বাড়ি থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
অন্যদিকে আলহাজ্ব মোঃ আমজাদ হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে তিনি ও তার স্ত্রী চেতনানাশক স্প্রের গন্ধে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে জেগে উঠে দেখেন, ঘরের শোকেজের লকার ভেঙে নগদ ১ লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৫ ভরি রূপার গহনা লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া আবু সাঈদের বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তার মেয়ে, প্রাইভেট শিক্ষক বিথি খাতুনকে রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। আরও কয়েকটি বাড়িতে গ্রীল কেটে মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। বর্তমানে বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল টহল, পেট্রোল ডিউটি ও সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের সহায়তায় গঠিত লাঠি-বাঁশি বাহিনী রাতে গ্রামের অলিগলিতে পাহারা দিচ্ছে। অপরিচিত কাউকে দেখলেই টর্চের আলো ও বাঁশির সংকেতে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ ওঠেছে, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার চারদিন পেরিয়ে গেলেও আলহাজ্ব আমজাদ হোসেনের চুরি যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার কিংবা জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত চোরচক্রকে গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদুল আজহা পর্যন্ত এ বিশেষ নিরাপত্তা ও যৌথ টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন