
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকলেও থেমে নেই চিকিৎসাসেবা। নানা সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার মধ্যেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্মরত চিকিৎসকরা রোগীদের সেবার মান বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
উপকূলীয় এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৮০’র দশকে ৩১ শয্যা নিয়ে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে বর্তমানে ৫০ শয্যার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ১৯ শয্যার ভবনে।
সরেজমিনে জানা যায়, পুরাতন ৩১ শয্যার ভবনটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হলেও প্রায় দুই বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে সীমিত অবকাঠামো নিয়েই হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে ৫১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে সাতজন বিভিন্ন স্থানে ডেপুটেশনে রয়েছেন এবং একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মাত্র ছয়জন চিকিৎসক নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।
এছাড়া ৩২ জন স্টাফ নার্সের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। নয়জন টেকনোলজিস্টের স্থলে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। এসএমসি এমও পদে ১৮ জনের স্থলে কর্মরত আছেন ১১ জন, যাদের মধ্যে ছয়জন বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছেন। অন্যদিকে ২০ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ছয়জন। বছরের পর বছর ধরে এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।
তবে এসব সংকটের মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে টিকিট কেটে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে অন্তর্বিভাগে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীদের জন্য সরকারিভাবে ৫২ ধরনের ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল এবং ১০ ধরনের সিরাপ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনা (এনসিডি) কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত রোগীদের নিয়মিত ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ সিফাত খান জানান, গত ১৭ জুন পর্যন্ত এনসিডি কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ৬৩৭ জন রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের প্রতি মাসে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন নতুন করে ৫০ থেকে ৬০ জন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী নিবন্ধন করছেন।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি অভিযোগ করেন, একটি মহল হাসপাতালের ওষুধ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। সোমবার রাতে হাসপাতাল কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, “হাসপাতালে ওষুধ সংকটের কোনো সমস্যা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুল তথ্য প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব সৃষ্টি করাও তাদের উদ্দেশ্য। আমরা সবসময় রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতেও নিয়মনীতি মেনে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
চিকিৎসক ও জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন