নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত দুইটি ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চরমটুয়া ইউনিয়নের নেয়াজের ডগি ও মমতাপুর গ্রামে অবস্থিত ‘মালেক ব্রিকস’ নামের দুটি ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় এনে বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসন। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হোমায়রা ইসলাম। তিনি ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পৃথক দুটি মামলায় প্রতিটি ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে পরিচালিত ভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতা করে নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদনবিহীন ইটভাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। এসব ভাটার কারণে কৃষিজমি নষ্ট হওয়া, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অভিযান শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হোমায়রা ইসলাম বলেন, “আইন অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ নেই। পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও জানান, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান অত্যন্ত সময়োপযোগী। পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মন্তব্য করুন