“পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, সুষম খাদ্য গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। উদ্বোধনী দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, নার্স, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালিতে পুষ্টি সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে জনসচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা নাসরিন। তিনি বলেন, সুস্থ জাতি গঠনের জন্য সঠিক পুষ্টি গ্রহণ অপরিহার্য। বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে অপুষ্টিজনিত রোগ কমে আসবে এবং একটি সুস্থ, কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে অনেক পরিবারে সুষম খাদ্য গ্রহণের অভাব রয়েছে, যার কারণে শিশুরা খর্বাকৃতি, রক্তস্বল্পতা এবং বিভিন্ন পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যায় ভুগছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারিভাবে পরিচালিত এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে পুষ্টি বিষয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গণি, ডা. মিনাক্ষী চাকমা, ডা. সাদসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, আগামী এক সপ্তাহজুড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ, উঠান বৈঠক, স্বাস্থ্য ক্যাম্প, পুষ্টি মূল্যায়ন এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে চলমান থাকলে পুষ্টি বিষয়ে জনগণের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সুস্থ ও সক্ষম হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন