ঢাকার সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেনের বহরে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই বিকেল প্রায় ৪টার দিকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে মো. আনোয়ার হোসেন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন। পথে ভাকুর্তা বটতলা বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের বহরের গতিরোধ করে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের হাতে লোহার রড, হাতুড়ি, ধারালো অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা প্রথমে মো. আনোয়ার হোসেনকে লক্ষ্য করে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। এ সময় তাঁর ভাই আলমগীর হোসেন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেওয়া হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করতে গেলে রিফাত, শফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, শাহিন হোসেন ও তৌহিদ হোসেনসহ আরও কয়েকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে রিফাতের হাত, শফিকুল ইসলামের চোখের ওপরে এবং শাহাদাত হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহতদের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে নগদ ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া মামলা করলে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় মফিজুল ইসলাম গগন, নাজম, মানিক মিয়া, অনিক, মোশারফ হোসেন, হোসেন ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার কারণেই আমি বারবার ষড়যন্ত্র ও হামলার শিকার হচ্ছি। তবে কোনো ভয়ভীতি আমাকে মানুষের সেবা থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সাভার মডেল থানার অধীন ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকাশ্য সড়কে এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন