দিনাজপুরের হিলিতে বসতবাড়ি ও সড়কের ধারে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে সজিনা চারা ও কাটিং রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলার ছোট জালালপুর এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম, হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। উপস্থিত বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় হাকিমপুর উপজেলায় মোট ৫ হাজার সজিনা গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বসতবাড়ির আঙিনা এবং রাস্তার ধারে এসব গাছ লাগানো হবে, যা একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “পরিবেশ রক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সজিনা গাছ সহজে বেড়ে ওঠে এবং এর পাতা, ডাঁটা ও ফল মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে চাই।”
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, সজিনা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি, যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে, যা সুস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও জানান, সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অল্প সময়ের মধ্যেই সজিনা গাছ থেকে ফলন পাওয়া সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই কর্মসূচি শুধু একটি দিনব্যাপী উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা পরিবেশ সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন