
ভারতের মুম্বাইয়ের এক দরিদ্র কিশোরের হৃদয়ছোঁয়া হাসি এক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ময়লা শার্ট, হাতে চায়ের কাপ আর অদম্য হাসিতে ভরা সেই মুখ এখন অনেকেরই পরিচিত।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এক কিশোর প্রাণ খুলে হাসছে—এতটাই স্বতঃস্ফূর্ত যে হাসতে হাসতে তার হাতের চায়ের কাপ থেকেও চা পড়ে যায়। সেই দৃশ্যই তাকে রাতারাতি এনে দেয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এই কিশোরের নাম অরুণ কুমার। মুম্বাইয়ের এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা অরুণ চতুর্থ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। জীবিকার তাগিদে খুব অল্প বয়সেই তিনি ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
তিনি কাজ করতেন ট্রাকচালক নেহেরুর সঙ্গে, যাকে তিনি ভালোবেসে ডাকতেন “নেহেরু আন্না” নামে। নেহেরুও তাকে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করতেন।
একদিন কাজ শেষে ট্রাক ধোয়ার পর নেহেরু আন্না অরুণকে একটি মজার গল্প বলেন এবং একটি জোকস শোনান। সেই জোকস শুনেই অরুণের হাসি যেন আর থামতেই চায় না। সেই মুহূর্তেই নেহেরু তার হাসির দৃশ্যটি মোবাইলে ধারণ করেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। সাধারণ এক কিশোরের নির্ভেজাল হাসি ছুঁয়ে যায় কোটি মানুষের হৃদয়।
ভিডিওটি শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, ভারতের রাজ্য প্রশাসনের নজরেও আসে। এরপর অরুণের জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। তাকে ট্রাকের হেলপার কাজ ছাড়তে হয় এবং পরে একটি স্কুলে ভর্তি করানো হয়।
বর্তমানে অরুণ পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী বছর তার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা রয়েছে। তার স্বপ্ন, পড়াশোনা শেষ করে একজন গ্র্যাজুয়েট হয়ে নিজের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করা।
তবে অরুণ এখনো ভুলে যাননি তার জীবনের সেই মানুষটিকে—নেহেরু আন্নাকে। তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি তার সেই প্রিয় গুরুর পাশে থাকতে চান, যিনি একদিন তার হাসিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছিলেন।
মন্তব্য করুন