বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায় কয়েকশ শিশু জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অন্তত পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুরুকপাতা ইউনিয়নের ইয়াংরিং পাড়া, রিংলত পাড়াসহ একাধিক দুর্গম এলাকায় ঘরে ঘরে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। ইয়াংরিং পাড়ার একটি হোস্টেলের এক শিক্ষার্থী হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্গম পাহাড়ি ভৌগোলিক অবস্থার কারণে অনেক শিশুকে কাঁধে বহন করে বা দীর্ঘ পথ হেঁটে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে, যা বেশিরভাগ পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুরুকপাতা বাজার ও পোয়ামুহুরীতে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে এবং গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. আবু হানিফ জানান, ম্রো জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। টিকা গ্রহণে অনীহা ও কুসংস্কার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে বর্তমানে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইউপি সদস্য সাংলুকং ম্রো অভিযোগ করেন, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জরুরি সেবা নিতে আরও সমস্যা হচ্ছে।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাত পুং ম্রো বলেন, দুর্গম পাড়াগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে মানুষকে সচেতন করতে কাজ চলছে।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োজিত রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
মন্তব্য করুন