দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় উচ্চমূল্যের সবজি ক্যাপসিকাম চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন কৃষক আব্দুর রউফ। উপজেলার ১০নং মোহনপুর ইউনিয়নের এই কৃষকের পরিশ্রম এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির সমন্বয়ে উৎপাদিত ক্যাপসিকাম এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন এই সবজি চাষে আব্দুর রউফের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরায় এলাকার অন্য কৃষকদের মধ্যেও ক্যাপসিকাম চাষে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম মূলত ভিটামিন সি, এ এবং কে-এর চমৎকার উৎস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়া এর ক্যাপসাইসিন উপাদান হজমশক্তি বৃদ্ধি ও ব্যথা উপশমে কাজ করে। পুষ্টিবিদদের মতে, ত্বক ও চুলের যত্নেও এই সবজিটি বেশ কার্যকর। বাজারে ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় আব্দুর রউফের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
কৃষক আব্দুর রউফ জানান, শুরুতে অপরিচিত এই সবজি চাষ নিয়ে তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও উপজেলা কৃষি অফিসের নিবিড় তদারকি ও কারিগরি সহায়তায় তিনি সফল হয়েছেন। বর্তমানে ফলন ও বাজারমূল্য দুটোই আশানুরূপ হওয়ায় ভবিষ্যতে চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। এই সফলতার পেছনে দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের দিকনির্দেশনা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম ও সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হায়দার আলীর নিয়মিত পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে তারা নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। আব্দুর রউফের এই সফলতা প্রমাণ করে যে, সঠিক কারিগরি সহায়তা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উত্তরের জেলাগুলোতেও ক্যাপসিকামের মতো আধুনিক সবজি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারেন।
মন্তব্য করুন