যশোরের তেঁতুলতলা এলাকার তিনজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তৃণমূল কর্মী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, মামলা-হামলা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা হলেন তরিকুল ইসলাম কচি (৫১), আরমান হোসেন (৩৬) এবং হাবিবুর রহমান বীরবাজ (৪৫)। স্থানীয়ভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই তিন কর্মী নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় থেকেই দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। বিভিন্ন সময় তারা দলীয় কর্মসূচি, মিছিল-মিটিং এবং আন্দোলনে অংশ নেন। তবে রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
তরিকুল ইসলাম কচি যশোর নগরের ৫নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য হিসেবে পরিচিত। তিনি জানান, অতীতে একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছেন এবং পরবর্তীতে একাধিক মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি মৎস্য শ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পারিবারিক জীবনে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নানা কষ্টের মধ্যেও তিনি জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরমান হোসেন স্থানীয় চাঁচড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সঙ্গে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানান। বর্তমানে তিনি একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করেন এবং পাশাপাশি মৎস্য শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেন। জীবিকার সংগ্রামের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হচ্ছে তাকে। তার পরিবারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
হাবিবুর রহমান বীরবাজ ডালমিল এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে সি এন জি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি জানান, রাজনৈতিক জীবনের কারণে বিভিন্ন সময় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
এই তিন কর্মীর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তারা দলের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করলেও বর্তমানে অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান না। তারা জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে তারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সংসার পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, তেঁতুলতলা এলাকায় এই তিন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তবে বর্তমানে তারা জীবিকার তাগিদে ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তারা আরও জানান, রাজনৈতিক আদর্শ ধরে রাখলেও বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ তাদের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তবুও তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং তারা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন