
পরিবেশ রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে আরও সচেতন, দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; বরং প্রয়োজন জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সচেতনতা।
সোমবার (৩ আগস্ট) দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “দেশটা আমাদের সবার, পরিবেশও আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। এজন্য প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, বৃক্ষনিধন ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাই পরিবেশ সুরক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা সবাই আমাদের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলি, বেশি বেশি গাছ লাগাই এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনকে উৎসাহিত করি। ছোট ছোট সচেতন উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিকল্প নেই। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরে বলেন, সরকার পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে এসব উদ্যোগ সফল করতে জনগণের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
ভিডিও বার্তার শেষাংশে তিনি দেশবাসীকে পরিবেশ সুরক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা একটি সবুজ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।”
প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বান ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পরিবেশ সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্ম তার বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে পরিবেশ রক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
মন্তব্য করুন