
বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি ভোটকেন্দ্রের অদূরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সোনাতলা গ্রামের হাবিব মাস্টারের বাড়ির সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ভোট দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে উভয় পক্ষের ১৯ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে জামায়াত সমর্থিত সাব্বির (২৪), আরিফ (২৩), তরিকুল (২৮), হাফিজুর (৩২), সাইফুল (২৭), সোবাহান (৩০), কামরুল (৩৫), নাজমা বেগম (৫০), ফরিদা বেগম (৫২) ও নাজমুল (২৬) রয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত সিদ্দিক (৪০), বাদল (২৯), রফিকুল (২৮), মিজান (৩২) ও ফারুক (৪৮) আহত হন। এছাড়া কয়েকজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির অভিযোগ করেন, তাদের ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার সময় বিএনপির ২০–২৫ জন কর্মী-সমর্থক লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তাদের দুই নারী ভোটারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, ভোট দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এতে তাদের দলের পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি পারস্পরিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, সোনাতলার বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উপজেলার অন্যান্য কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং ভোটার উপস্থিতিও সন্তোষজনক।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিশ্বজিৎ মজুমদার জানান, নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত ১৯ জন হাসপাতালে আসেন। এদের মধ্যে ১০ জনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামিনুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় ভোটগ্রহণে কোনো প্রভাব পড়েনি। সোনাতলা কেন্দ্রসহ উপজেলার সব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন