
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী ডিউটি দেওয়ার নামে অনৈতিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন দলনেত্রী সাধনা রানী দাস।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়া উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. মমতাজ পারভীনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ডিউটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী সাধনা রানী দাস দাবি করেন, ইউনিয়ন সহকারী প্লাটন কমান্ডার পাভেল গাজী এবং বুলু (যিনি কালিয়া উপজেলা আনসার-ভিডিপি কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করেন)–এর যোগসাজশে তার কাছ থেকে একাধিক ধাপে মোট প্রায় ৩১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ডিউটির জন্য ৪০ জনের নাম রেজিস্ট্রেশন এন্ট্রি আবেদনের কথা বলে ২ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া ভিডিপি ট্রেনিং সার্টিফিকেটবিহীন ১০ জনকে ডিউটি দেওয়ার আশ্বাসে ৮ হাজার টাকা এবং আরও ১০ জনের ডিউটি নিশ্চিত করার কথা বলে ১৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে যারা নির্বাচনী ডিউটির জন্য আবেদনই করেননি, এমন ৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাসে আরও ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাধনা রানী দাসের স্বামী সংকর ও ছেলে সোহাগের নাম (যাদের ভিডিপি ট্রেনিং সার্টিফিকেট নেই) নির্বাচনী ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা উৎকোচ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
সাধনা রানী দাস জানান, তার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী মোট ৬০ জনকে নির্বাচনী ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩৮ জনকে ডিউটি দেওয়া হয়, যাদের বেশিরভাগেরই ভিডিপি ট্রেনিং সার্টিফিকেট রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রেনিং সার্টিফিকেট ছাড়াই ১০ জন ব্যক্তি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করলেও তাদের মধ্যে চারজনের (জহিরুল, টুটুল ফকির, সুইটি ও ইয়াছিন মুন্সী) বিলের টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আনসার কর্মকর্তা মোছা. মমতাজ পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এদিকে, নির্বাচনী ডিউটির জন্য তার মাধ্যমে টাকা প্রদানকারী কয়েকজন ব্যক্তি টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়া উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. মমতাজ পারভীন বলেন, “জেলা অফিসে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় রায় আমার পক্ষে এসেছে।” অভিযোগকারী পক্ষের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো কলহ নেই।”
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, তাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি নড়াইল জেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
নড়াইল জেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা সদরে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন