
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার একটি গ্রামের স্কুলে এবার বই-খাতার পাশাপাশি হাতে উঠল রোবট তৈরির সরঞ্জাম। প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে গিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। কেউ শিখেছে রোবট কীভাবে কাজ করে, কেউ আবার প্রথমবারের মতো প্রোগ্রামিংয়ের জগতে পা রেখেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়-এ অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমধর্মী ‘রোবোটিক্স ওয়ার্কশপ’। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
গ্রামীণ পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়াতে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাটি পৃষ্ঠপোষকতা করে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে রোবোটিক্স, প্রোগ্রামিং এবং প্রযুক্তির মৌলিক ধারণা দেওয়া হয়।
শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা রোবটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দেখা, সংযোগ তৈরি এবং সহজ নির্দেশনা দিয়ে কাজ করানোর কৌশল শেখে। অনেকেই প্রথমবারের মতো প্রযুক্তির এমন ব্যবহারিক দিক কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিল্প প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২৪ ব্যাচের চার শিক্ষার্থী। তাদের তত্ত্বাবধানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেয়।
প্রশিক্ষকরা জানান, শুধু বইয়ের পড়াশোনা নয়, বাস্তবভিত্তিক প্রযুক্তি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়ায়। কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভবিষ্যতে রোবোটিক্স ও প্রযুক্তি নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুহসিয়া তাবাসসুম। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এ কারণে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরও প্রযুক্তি শিক্ষায় এগিয়ে আনা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহিম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহী একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে এমন আয়োজন নিয়মিত করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন-এর আহ্বায়ক ইমরান হোসেন ভূঁইয়া এবং সদস্য সচিব মাহামুদুর রহমান রাকিব জানান, সেনবাগের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা চান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কর্মশালা ছড়িয়ে দেওয়া হোক।
তারা আরও বলেন, লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ-এর অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল এ আয়োজনকে সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কর্মশালা শুধু নতুন কিছু শেখার সুযোগই নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মন্তব্য করুন