দীর্ঘ চার বছর পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গম আমদানি শুরু হয়েছে। নতুন করে আমদানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
শনিবার (তারিখ অনুযায়ী) বিকেলে হিলি স্থলবন্দরে তিনটি ট্রাকে মোট ১১৬ টন গম প্রবেশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। আমদানিকৃত এসব গম ভারতের বুনিয়াদপুর এলাকা থেকে আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিফা ইন্টারন্যাশনাল এই গম আমদানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আবুল বাশার মম বলেন, দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর আবারও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গম আমদানি শুরু হলো। এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে সর্বশেষ গম আমদানি হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ভারত সরকার একসময় নিজ দেশের বাজারে গমের সংকটের কারণে রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল। তবে সম্প্রতি প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন গম রপ্তানির অনুমতি দেওয়ায় আবারও আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগের অংশ হিসেবেই আজ ৩টি ট্রাকে ১১৬ টন গম আমদানি করা হয়েছে।
আবুল বাশার মম আরও বলেন, আমদানি করা গম প্রতি টন ২৭৭ মার্কিন ডলার দরে আনা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই গম খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩৭ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশে গমের চাহিদা থাকায় এই আমদানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হিলি স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় গম আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। নতুন করে আমদানি শুরু হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং ভোক্তারা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি পাবেন।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আমদানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় কাস্টমস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী আরও গম আমদানি বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও ভারতীয় রপ্তানি নীতির পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে গম আমদানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটি খাদ্যপণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন, নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকলে হিলি স্থলবন্দর আরও সক্রিয় হবে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
মন্তব্য করুন