
পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-কে ঘিরে দল বিলুপ্তির ঘোষণা ও নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করা যাবে) বিকেলে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমার নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়। ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সংগঠনটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং দলের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিতে (জেএসএস) যোগ দিয়েছেন। তার সঙ্গে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীও যোগ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তবে বিবৃতিতে অমল কান্তি চাকমার কোনো স্বাক্ষর বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ ছিল না।
এ বিষয়ে শনিবার সকালে খাগড়াছড়ির মধুপুর বাজারে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ওই বিবৃতিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও গঠনতন্ত্রবহির্ভূত বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে অমল কান্তি চাকমা বলেন, ফেসবুকে প্রচারিত বিবৃতির সঙ্গে তার বা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সম্পর্ক নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতি ছাড়া দল বিলুপ্তির মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) আগের মতোই তার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা (তরু) ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিটন চাকমার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। তার দাবি, তারা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণসহ গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব অভিযোগের মুখে তারা প্রায় ২০–২৫ জন অনুসারী নিয়ে খাগড়াছড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অমল কান্তি চাকমা আরও জানান, বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে তারা জানতে পেরেছেন যে শ্যামল কান্তি চাকমা ও তার অনুসারীরা সন্তু লারমা সমর্থিত জনসংহতি সমিতির সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সহসভাপতি সমীরণ চাকমা (চারমিং) সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা, কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপন চাকমা এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সবিনয় চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে শ্যামল কান্তি চাকমা তরুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে প্রসীত খিসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) থেকে বের হয়ে তপনজ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) গঠিত হয়। ২০১৮ সালে তপনজ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন গুলিতে নিহত হন এবং আরও আটজন আহত হন। এরপর থেকে শ্যামল কান্তি চাকমা সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
মন্তব্য করুন