কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বসতবাড়ির সামান্য জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরম সংঘাতে রূপ নিয়েছে। হামলা, পাল্টা হামলা ও মামলার জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে তিনটি পরিবার, যা এখন তাদের জীবনকে করে তুলেছে অনিশ্চিত ও আতঙ্কপূর্ণ।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের জুগিরখিল গ্রামের মৃত আলী নোয়াবের তিন ছেলে—আলমগীর হোসেন, নজরুল ইসলাম শামীম ও জাহাঙ্গীর হোসেনের মধ্যে প্রায় ১০ শতক বসতভিটা ও একটি চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ১৩ মার্চ বড় ভাই আলমগীর ও ছোট ভাই শামীমের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দু’জনই গুরুতর আহত হন। আলমগীরের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ক্ষতিগ্রস্তসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখম হয় এবং শামীমও মারাত্মক আঘাত পান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে গত ৮ এপ্রিল আলমগীর হোসেন তার দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর ও শামীমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পরে জাহাঙ্গীর জামিনে মুক্ত হলেও শামীম এখনো কারাগারে রয়েছেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না, তবুও তাকে ও তার স্ত্রীকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে কারাভোগ করেছেন এবং বর্তমানে চরম মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা এই পরিবারটি এখন সামাজিকভাবে লজ্জা ও ভয় নিয়ে বেঁচে আছে।
অন্যদিকে আলমগীর হোসেন দাবি করেন, তার ভাইয়েরা পরিকল্পিতভাবে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। তিনি জানান, তার শরীরে এখনো বহু সেলাই রয়েছে এবং ডান হাতে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তিনি এ ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেন।
পরিবারের মাতা নূরজাহান বেগম বলেন, পারিবারিক এই বিরোধের জন্য তিনি অত্যন্ত কষ্টে আছেন। তিনি চান, তার তিন ছেলে আবারও মিলেমিশে বসবাস করুক। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্টদের অনীহার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান।
চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক তারেক উদ্দিন আকাশ জানান, মামলার পর দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সামাজিক ও আইনি সমাধান না হলে এই পারিবারিক বিরোধ আরও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
মন্তব্য করুন