কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ মোছা. সুফিয়া খাতুন (৫৩) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পরিচালিত এ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃত সুফিয়া খাতুন উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মাতুয়ারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত সুলু মিয়ার মেয়ে এবং মো. আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনের নির্দেশনায় ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস। তার সঙ্গে সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেয়।
অভিযান চলাকালে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের আগরপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ‘আর্শীরবাদ মিষ্টান্ন ভান্ডার’-এর সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে সুফিয়া খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ২ কেজি নেশাজাতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
পুলিশ জানায়, আটককৃত নারী মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গাঁজা সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক সরবরাহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে, চলতি মাসে এসআই সুজন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একাধিক সফল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এই মাসেই তিনটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছেন।
শুধু চলতি মাস নয়, গত ১৮ মাসে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি প্রায় অর্ধশত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়। তার এ ধারাবাহিক অভিযানে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে কুলিয়ারচর উপজেলায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমে আসবে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদেরও একইভাবে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার করা হবে।
মন্তব্য করুন