পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া যেন ভুয়া চিকিৎসক আর অনিয়মপ্রবণ ক্লিনিকগুলোর এক নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে উন্মোচিত হচ্ছে এই খাতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র। ভ্রাম্যমাণ আদালতের একের পর এক ঝটিকা অভিযানে নামধারী বিশেষজ্ঞ ও ভুয়া চিকিৎসকরা ধরা পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সবশেষ গত ১৯ এপ্রিল (রবিবার) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে নিজেকে হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয় দেওয়া সুবাস চন্দ্র মোহন্তকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তিনি রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। এর মাত্র কয়েকদিন আগে ১৩ এপ্রিল সাফা বাজার এলাকার একটি সার্জিক্যাল ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে পি সি বর্মন নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে দণ্ডিত হন ক্লিনিক মালিক মনির হোসেনও।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মঠবাড়িয়ার স্বাস্থ্য খাতে এই বিশৃঙ্খলা নতুন নয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে ৭টি ক্লিনিকে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়লে সেগুলো সিলগালা করা হয়েছিল। এমনকি ভুল সিজারিয়ান অপারেশন এবং গর্ভের সুস্থ সন্তানকে ‘মৃত’ বলে রিপোর্ট দেওয়ার মতো রোমহর্ষক অভিযোগও রয়েছে স্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তদারকি এড়িয়ে এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বিশেষ করে কিছু ডেন্টাল ক্লিনিকের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রবল সন্দেহ থাকলেও সেগুলো এখনো বড় ধরণের নজরদারির বাইরে রয়ে গেছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের এই সাঁড়াশি অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয় বরং নিয়মিত তদারকি, লাইসেন্স যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলেই মঠবাড়িয়ার স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব।
ভুয়া চিকিৎসকদের এই প্রতারণা জাল ছিঁড়ে মঠবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ কবে নাগাদ নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন