পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় পশারিবুনিয়া ওয়ারেচ আফছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দকে সম্মান জানিয়ে এক আন্তরিক বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মোঃ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসক মোঃ হাসিবুল হাসান। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, “একজন শিক্ষক শুধু পাঠদানই করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কারিগর। তাদের ত্যাগ ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম, মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ শাহ্ জামাল, দারুলহুদা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মাহাবুব হোসেন মারুফ, শিক্ষক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন খান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ নাসির উদ্দীন ও নাঈম মাতুব্বরসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন শিক্ষাসেবায় নিয়োজিত থেকে অবসর গ্রহণকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, স্বপন কুমার রায় এবং আব্দুল অহেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক এবং বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিরা করতালির মাধ্যমে তাদের সম্মান জানান।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন, যেখানে উঠে আসে শিক্ষকদের স্নেহ, শাসন এবং দিকনির্দেশনার নানা স্মৃতি। এসব স্মৃতিচারণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল আবেগঘন হয়ে ওঠে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও প্রতিষ্ঠানটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তে এমন সম্মাননা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, শিক্ষকদের স্মরণীয় করে রাখা এবং তাদের দীর্ঘদিনের অবদান ও ত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করাও এ অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত শিক্ষক মোঃ ফরিদ আলম খান ও মোঃ শহিদুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা, শিক্ষার্থীদের সফলতা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা ভবিষ্যতেও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
মন্তব্য করুন