দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার প্রধান শস্যভাণ্ডার নলুয়ার হাওরের ফসল তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণে ফসলের মাঠ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক। মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মাঠের পর মাঠ পাকা ফসল পানির নিচে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক কৃষক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুরাখালী গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া এ বছর ২০ কিয়ার (বিঘা) জমিতে চাষাবাদ করেছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নাইয়া (শ্রমিক) সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারিনি। মাত্র ৮ কিয়ার ধান ঘরে তুললেও ১২ কিয়ার জমি এখন পানির নিচে। কষ্টার্জিত ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে।
একই করুণ চিত্র দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সারদা চরন দাসের। তিনি ১৬ কেদার জমি আবাদ করে মাত্র এক কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম, একমাত্র এই বোরো ফসলের ওপরই আমার পরিবার নির্ভরশীল। এখন সারাবছর কীভাবে চলব?”
অন্যদিকে কৃষক আলাল মিয়া জানান, হাওরে প্রচুর ধান পেকে থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে কাটা যাচ্ছে না। আবার জলাবদ্ধতার কারণে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনও জমিতে নামানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ পাকা ধান এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর, মইয়া ও পিংলার হাওরসহ ছোট-বড় ১৫টি হাওরে এ বছর ২০ হাজার ৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কাওসার আহমদ বলেন, আমরা নিয়মিত হাওর পর্যবেক্ষণ করছি। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। শ্রমিক সংকট ও জলাবদ্ধতায় কিছু কৃষক বিপাকে পড়েছেন। আশা করি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা শেষ হবে।
মন্তব্য করুন