
পটুয়াখালীর মহিপুর থানার নজিবপুর গ্রামে সাধারণ মানুষের জন্য স্থাপন করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ‘সংগ্রাম’-এর একটি গভীর নলকূপ ও নারীবান্ধব বিশ্রামাগার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ইমরান শিকদারের বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে এলাকাবাসী জানান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে এনজিও ‘সংগ্রাম’ নজিবপুর গ্রামে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে। পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য ‘সুটকিপল্লী নারীবান্ধব বিশ্রামাগার’ নির্মাণ করা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইমরান শিকদার প্রভাব খাটিয়ে জনকল্যাণমূলক স্থাপনা দুটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। টিউবওয়েল থেকে আশপাশের বাড়িতে বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে পানির পাইপের সংযোগ দিতে প্রতি লাইনের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, এনজিওর অর্থায়নে নির্মিত জনসেবামূলক স্থাপনাগুলো ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে স্থাপনা দুটি সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ইমরান শিকদার বলেন, “ওখানে জনসাধারণের জন্য কিছুই নেই। যা আছে, তা আমার এবং ওই জমিও আমার। সেখানে টিউবওয়েল আনার জন্য আমি ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি। তাই টিউবওয়েল থেকে তিনটি লাইন অন্যদের দিয়ে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছি। এখনও সেখানে আমার ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা আছে।”
এ বিষয়ে এনজিও ‘সংগ্রাম’-এর কুয়াকাটা শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুখ হোসেন বলেন, “আমাদের সংস্থার দেওয়া টিউবওয়েল থেকে সাইড লাইন দিয়ে টাকা নেওয়ার কোনো এখতিয়ার কারও নেই। একইভাবে নারীবান্ধব বিশ্রামাগার ভাড়া দেওয়া বা লিজ দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “জমিটি ইমরান শিকদারের নিজস্ব সম্পত্তি হলেও আমাদের সঙ্গে তার চুক্তি বা এগ্রিমেন্ট করা আছে। তাই তিনি স্থাপনাগুলো ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার বা নিজের সম্পত্তি হিসেবে দাবি করতে পারেন না।”
এনজিও কর্মকর্তার দাবি, ইমরান শিকদার সংস্থাটি থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। ওই ঋণ পরিশোধ না করে তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়েছে, যা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে কয়েকদিন আগে একটি সাইক্লোন সেল্টারের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক মালামাল লোপাটের ঘটনায় ইমরান শিকদার জড়িত—এমন অভিযোগে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে সাংবাদিকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে ভিডিওটি তিনি মুছে দেন।
তবে সাইক্লোন সেল্টারের মালামাল লোপাটের অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে ইমরান শিকদারের বক্তব্য জানা যায়নি।
জনস্বার্থে নির্মিত টিউবওয়েল ও নারীবান্ধব বিশ্রামাগার সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন