বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৭নং দেবরাজ দিঘীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী শওকত তালুকদারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, এ বিদ্যালয়টিতে ১১৪ জন শিক্ষার্থী ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের কর্মচারী শওকাত তালুকদার প্রধান শিক্ষককে মোবাইলের মাধ্যমে অবহিত করে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ দিনের ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। অথচ, ছুটির কোন আবদেনপত্র নেই প্রধান শিক্ষকের কাছে। সরকারি নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে ছুটি। এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকায় সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। এদিকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সকাল ৮টার থেকে ৯টা মধ্যে শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট পড়ান।
জানাগেছে, ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী শতকাত তালুকদার বিগত ফ্যাসিষ্ট আমলে তার চাকুরি হয়েছে। এখনও প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে না গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। সপ্তাহে দুই একদিন বিদ্যালয়ের আসেন। একজন কর্মচারী কিভাবে অনুপস্থিত থেকে মাসের পর মাস বেতন তুলছেন?। অনেক সময় বিদ্যালয়ে এসেও দোকানে সময় কাটান শওকাত তালুকদার। প্রতিমাসের বেতন তুলতে প্রত্যায়ন দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় অভিভাবক মো. শিমুল তালুকদার, মাজহারুল তালুকদার, এসকেন্দার মাল, শরীফুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী শওকাত তালুকদার বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসে না। প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে তার খেয়াল খুশিমত বিদ্যালয়ের আসে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে তার হাজিরা খাতাও স্বাক্ষর নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রশাসনের কাছে তদন্ত পূর্বক স্বাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে দুলাল কৃষ্ণ মিস্ত্রী বলেন, ২০০৭ সাল থেকে রয়েছি এ বিদ্যালয়ে। কর্মচারীর হাজিরা খাতা স্কুলেই রয়েছে তিনি স্বাক্ষর করেনি। সে নিয়মিত স্কুলে থাকেন। প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, অভিভাবকদের অনুরোধে প্রাইভেট পড়ানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ থাকলে আমি আর প্রাইভেট পড়াবো না।
এবিষয়ে পাঁচগাও ক্লাষ্টার উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি সদ্য ক্লাষ্টারে যোগদান করেছি। বিদ্যালয়ের কর্মচারীর অনিয়ম কিছু হলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রীঘই ওই বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করবেন বলে এ কর্মকর্তা জানান।