বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর বারইখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের উত্তর সুতালড়ী গ্রামে জোরপূর্বক মৎস্য ঘের দখল, সন্ত্রাসী হামলা এবং মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত ৯টায় মোরেলগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তর সুতালড়ী গ্রামের অধিবাসী মো. জাহিদুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, উত্তর সুতালড়ী গ্রামের বলধরা নদীর তীরবর্তী ৪৫ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে স্থানীয় মালিকেরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ ও ফসল ফলিয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত ০৫/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখে রাকিব হোসেন, সাইফুল ইসলাম সাবুল, ইমরান, সজিব, আজমির, হাসিব, সোহাগ, লিয়াকত, সাখাওয়াত, জাহাঙ্গীর, রেশসনা ও সোহেল খাঁসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল জোরপূর্বক ওই মৎস্যঘের দখল করে নেয় এবং চাষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে গত ২৭/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখে মোরেলগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে শরিফুল দারোগার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিরোধীপক্ষ “ঘেরে আর যাবে না” মর্মে মুচলেকা প্রদান করে। তবে মুচলেকা দেওয়ার পরও গত ২৯/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখে মাছের পোনা অবমুক্ত করতে গেলে বিরোধীপক্ষ পুনরায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ঘেরটি পুনরায় দখলে নেয় এবং কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে আসামিরা উল্টো কাউন্টার মামলা দায়ের করে।
পরিস্থিতি নিরসনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আলীম ও প্রতিমন্ত্রী জনাব শেখ ফরিদুল ইসলামের হস্তক্ষেপে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ-এর সমন্বয়ে উভয় পক্ষকে ডাকার নির্দেশ দিলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে অবৈধ দখল অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে মোরেলগঞ্জ থানার এসআই আবদুল্লাহ আল-মামুন সরজমিনে গিয়ে থানায় বসে সমাধানের প্রস্তাব দিলে বিরোধীপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে।
ঘের উদ্ধারে কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১৪৪ ধারায় মামলা করলে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ২৭/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখে সাবুল ও রাকিবের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ধারালো রামদা, চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, শাবল, রড ও হাতুড়ি নিয়ে পুনরায় হামলা চালায়। এতে জুয়েল, লিটন ও মাহবুব জোমাদ্দারসহ অন্তত ১০-১২ জন গুরুতর আহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ২৯/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখে ভুক্তভোগীদের নামে মিথ্যা মামলা ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত রাকিব নিজের ঘর নিজেই পুড়িয়ে দেয়। এ ছাড়াও বলেন, এই দখলবাজেরা মাদক সরবরাহ ও সেবনের সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলেছে।
ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এলাকাটি “দ্বিতীয় জঙ্গল সলিমপুর”-এ পরিণত হতে পারে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। এবং অবিলম্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, দখলকৃত ঘের উদ্ধার এবং সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
মন্তব্য করুন