পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলায় লোড-আনলোড ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নে নতুন সদস্য নিয়োগ, পরিচয়পত্র প্রদান এবং সিরিয়াল বণ্টনের নামে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইনছান আলী এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানসহ একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, তেতুলিয়া উপজেলা শাখা, তিরনই হাট, বুড়াবুড়ি ও বাংলাবান্ধা শাখায় নতুন শ্রমিক সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও পরিচয়পত্র (কার্ড) প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে। তেতুলিয়া উপজেলা শাখায় ১৭ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা, ৩ জনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা, তিরনই হাট শাখায় ১২ জন শ্রমিকের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ, বুড়াবুড়ি শাখায় ২২ হাজার টাকা এবং বাংলাবান্ধা শাখায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৫ শত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, পাথর, বালু ও বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক থেকে মালামাল ওঠানো-নামানোর (লোড-আনলোড) কাজে সিরিয়াল পাওয়ার জন্যও শ্রমিক নেতাদের একটি অংশকে নিয়মিতভাবে অবৈধ কমিশন বা বকশিশ দিতে হয়। ফলে সাধারণ দিনমজুর শ্রমিকরা ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাওশাদ জমির সরকার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগটি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য মো. দেওলোয়ার হোসেন দুলাল এবং মো. রঞ্জু মাসুদের পক্ষ থেকে পেশ করা হয়। অভিযোগে শ্রমিক অধিকার রক্ষা, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শ্রমিক ইউনিয়নের মতো সংগঠনে এ ধরনের অনিয়ম শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে এবং সংগঠনের সুনাম নষ্ট করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে তেতুলিয়া শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইনছান আলী ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ১৭ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন এবং একটি সভা-সমাবেশে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, বাকি অর্থ ইউনিয়নের ফান্ডে জমা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্বের কমিটি তার বিরুদ্ধে ২৩ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনেছিল, যার তিনি জবাব দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমান অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ শ্রমিকরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন