পঞ্চগড়ে একই দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন দুই ব্যক্তি। এর মধ্যে একজন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসার সময় সঙ্গে করে নিয়ে আসেন তাকে কামড় দেওয়া মৃত সাপটি। সাপটি দেখে চিকিৎসকরা বিষধর হিসেবে শনাক্ত করেন এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত এন্টিভেনাম (বিষের প্রতিষেধক) প্রয়োগ করেন।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনাটি ঘটে।
সাপে কাটা দুই ব্যক্তি হলেন আটোয়ারী উপজেলার চুচুলী বটতলী এলাকার নজরুল ইসলাম এবং বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার উমর ফারুক।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নিজ বাড়ির খড়ির ঘরে কাজ করার সময় নজরুল ইসলামকে একটি সাপ কামড় দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা সাপটিকে মেরে ফেলেন এবং চিকিৎসকদের শনাক্তের সুবিধার্থে সেটি সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসকরা সাপটি দেখে বিষধর বলে নিশ্চিত হন। স্থানীয়দের ধারণা, এটি কোবরা বা গোখরা প্রজাতির সাপ হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নজরুল ইসলামকে দ্রুত এন্টিভেনাম দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে বোদা উপজেলার একটি পাটক্ষেতে কাজ করার সময় সাপের কামড়ে আহত হন উমর ফারুক। পরে তাকে দ্রুত বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
নজরুল ইসলামের বাবা ইউনুস আলী বলেন, “খড়ির ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ সাপটি আমার ছেলেকে কামড় দেয়। পরে আমরা সাপটিকে মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসকরা দ্রুত চিকিৎসা দিয়েছেন। এখন সে অনেকটাই সুস্থ রয়েছে।”
বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফুল কবীর জানান, শনিবার সাপে কাটা দুই রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলামকে বিষধর সাপ কামড় দেওয়ায় দ্রুত এন্টিভেনাম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। অপর রোগী উমর ফারুককেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই খড়ির ঘর, ঝোপঝাড় ও বসতবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সাপের কামড়ের ঘটনায় ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন