মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে প্রবেশ করা পানিতে এখনও বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রধান নদী মনুর পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। একই সময়ে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকাতেও বাঁধের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এসব ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল স্রোতে বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে।
বন্যার পানিতে রাজনগর ও কুলাউড়ার অন্তত ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন