নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম। আম্মা বা’দ।
বর্তমান সময়ে গুম, খুন ও হত্যার ঘটনা সমাজের এক উদ্বেগজনক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে এসব ঘটনার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ ইসলাম মানবজীবনের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করাকে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল। তাই ইসলাম গুম, খুন ও হত্যার মতো অপরাধকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং এসব অপরাধের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান নির্ধারণ করেছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা কিসাসের বিধান সম্পর্কে ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাস ফরজ করা হয়েছে। স্বাধীনের বদলে স্বাধীন, দাসের বদলে দাস এবং নারীর বদলে নারী।” (সূরা আল-বাকারা: ১৭৮)
এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষকে হত্যা ও রক্তপাতের মতো অপরাধ থেকে বিরত রাখা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মানবজীবনের পবিত্রতা সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, “কোনো মুসলমানের রক্ত বৈধ নয়, তবে তিনটি ক্ষেত্রে— যদি সে অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, বিবাহিত হয়েও ব্যভিচারে লিপ্ত হয় অথবা ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়।” (বুখারি ও মুসলিম)
তবে এসব ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগতভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। ইসলামী রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার বিধান রয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সমাজে ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অর্থনৈতিক স্বার্থ কিংবা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুম, খুন ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব অপরাধের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এগুলো মানবতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, অন্যায়ভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির ওপর থেকে আল্লাহর রহমতের ছায়া সরে যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “একজন মুমিন তার দ্বীনের ব্যাপারে প্রশান্ত ও নিরাপদ থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে অবৈধ হত্যাকাণ্ডে জড়িত না হয়।” (সহিহ বুখারি)
আরেক হাদিসে মহানবী (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, “কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়ে ফয়সালা করা হবে, তা হলো রক্তপাত বা হত্যার বিষয়।” (বুখারি ও মুসলিম)
এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ তাআলার কাছে মানুষের জীবন কতটা মূল্যবান এবং হত্যার অপরাধ কত ভয়াবহ।
সুতরাং সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য গুম, খুন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। মানবসেবা, সহমর্মিতা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে।
আসুন, আমরা কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করি এবং অন্যায়, জুলুম ও রক্তপাত থেকে নিজেদের দূরে রাখি। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মানবতার কল্যাণে কাজ করার এবং গুম, খুন ও হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।
আমিন।
মন্তব্য করুন