
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে টপসয়েল কেটে পুকুর ও দীঘি খননের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল এবং কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞার নেতৃত্বে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযান দুটি ধাপে পরিচালিত হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধভাবে টপসয়েল কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষিজমি ধ্বংসের প্রবণতা রোধ করা।
প্রথম ধাপে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গণিপুর ইউনিয়নের দুবিলা বিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। সেখানে কৃষিজমির মূল্যবান টপসয়েল কেটে পুকুর খননের অভিযোগে গণিপুর গ্রামের তমিজ উদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে টপসয়েল কাটায় ব্যবহৃত দুটি ভেকু মেশিন ঘটনাস্থলেই অকেজো করে দেওয়া হয়।
অভিযানের সময় আরও অভিযোগ উঠে যে, ভেকু মেশিন সরিয়ে নিতে বাধা দিলে একটি প্রভাবশালী পক্ষ জোরপূর্বক এক কৃষকের সরিষা ক্ষেত নষ্ট করে মেশিন সরিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
দ্বিতীয় ধাপে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের নিমাই বিল এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। সেখানে কাউকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব না হলেও অবৈধভাবে কৃষিজমির টপসয়েল কাটায় ব্যবহৃত আরও দুটি ভেকু মেশিন স্পটে অকেজো করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে ফসলি জমি কেটে পুকুর ও দীঘি খনন করে আসছিল। এর ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক কৃষক তাদের আবাদি জমি হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, “কৃষিজমি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অবৈধভাবে টপসয়েল কেটে পুকুর খননের মাধ্যমে ফসলি জমি ধ্বংস করার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকের জমি রক্ষা করা সরকারের অগ্রাধিকার। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কৃষিজমি রক্ষা ও অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রশাসনকে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন