
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৪১ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ‘জনতার ইশতেহার’ নামে ঘোষিত এই ইশতেহারে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
ইশতেহারের প্রথম অংশে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। এতে শাসনব্যবস্থার সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়ন, জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশে আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্প, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যুব সমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বে গড়ে তোলার উদ্যোগ। নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, ‘জনতার ইশতেহার’ প্রণয়নে অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি মানুষের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।
২৬টি অগ্রাধিকার বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, যুব ও নারীদের ক্ষমতায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গঠন, প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সমাজ প্রতিষ্ঠা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার এবং সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন